স্টাফ রিপোর্টার,২৪ আগস্ট ২০২১(বিবিনিউজ ):বিধবা শুকুরজান (৫৬)। ঢাকার ধামরাইয়ের গাঙগুটিয়া ইউনিয়নের হাতকোড়া গ্রামে বসবাস তার। নেই নিজের জমি-জমা বা ঘর-বাড়ি। অন্যের জমিতে টিনের একটি জীর্ণশীর্ণ ছাপড়া ঘরেই তার দিনাতিপাত। যেখানে রান্না, সেখানেই খাওয়া-ঘুমানো। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এমনই এক মানবেতর জীবন পার করছেন শুকুরজান।
ধামরাইয়ে সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও অসহায় দরিদ্রদের মাঝে আশ্রয়ণ ও দুর্যোগসহনীয় ঘর দেয়া হয়েছে কয়েক দফায়। এতে অনেক বিত্তশালীও পেয়েছে ঘর। তবে অন্যের বাড়িতে থাকা বিধবা শুকুরজানের ভাগ্যে জোটেনি।
জানা যায়, শুকুরজানের দরিদ্র বাবা দরবার বেপারী তাকে বিয়ে দিয়েছিলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের বাসু মিয়ার সাথে। বিয়ের পর শুকুরজান কিছুদিন শ্বশুড়বাড়িতে থাকলেও অভাবের তাড়নায় স্বামীর সাথে চলে আসেন সাভারে। স্বামী রিকশা চালানোর পাশাপাশি করতেন রাজমিস্ত্রির কাজ। দাম্পত্য জীবনে নুর হোসেন (২৮) নামে একটি ছেলেও রয়েছে তাদের। তবে অভাবের সংসারে হঠাৎ আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। রানা প্লাজায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় মারা যান বাসু মিয়া। এরপর শুরু হয় বিধবা শুকুরজানের জীবনযুদ্ধ। অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়ে ছেলেকে নিয়ে চলে যান গ্রামে।
মা-বাবাও মারা গেছেন অনেক আগে। বাবার জমিজমাও ছিলো না। ফলে ঠাই হয় প্রতিবেশী ফজল মিয়ার বাড়িতে। সেখানে ধার-দেনা করে টিনের একটি ছাপড়া ঘর তুলে আছেন তিনি। ছেলে অন্যত্রে বিয়ে করে গড়েছেন সংসার। ফলে বৃদ্ধ বয়সেও ইটভাটা ও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে তাকে। এভাবেই দীর্ঘ ৫৬ বছর বয়সেও মাথাগোজার ঠাঁয় হয়নি শুকুরজানের। অন্যের বাড়িতে ছয়টিনের ছাপড়া ঘরই তার ঠিকানা।
সরকার থেকে একটি ঘর পাওয়ার দাবি জানিয়ে শুকুরজান বলেন, “আমারে যদি সরকার থেকে একটি ঘর দিতো বা কোন গুচ্ছগ্রামে থাকার ব্যবস্থা করে দিতো ত্যালে আমার খুব ওপুকার অইত। হুনছি সরকার থ্যাইকা ঘর দেয়, কিন্তু আমারতো জমিও নাই, বাড়িও নাই, ত্যালে কি আমি একটা ঘর পামু না?”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মোল্লা বলেন, অসহায় শুকুরজানকে কোন গুচ্ছগ্রাম কিংবা আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘর দিলে ছেলেকে নিয়ে থাকতে পারতো। সে ঘর পাওয়ার উপযোগী বিধবা এক নারী।
ধামরাই ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে একটি ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
